সর্বশেষ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:'হুমকির মুখে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা'

/ নিরাপদ আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিতের সুপারিশ জাতিসংঘের, দেশে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি /

প্রকাশ :


২৪খবরবিডি: 'বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন মূলত নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে খাদ্য শৃঙ্খলে। বিশ্বের অন্তত ২৩টি দেশ নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ঠিক রাখতে কমপক্ষে ৩৩ ধরনের খাদ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশই খাদ্য সংকটের আতঙ্কে রয়েছে।'
 

বিশেষ করে যেসব দেশে খাদ্য ব্যবস্থা অর্ধেক কিংবা তার কম আমদানি নির্ভর সেসব দেশ সংকটময় পরিস্থিতি পার করছে। তবে যেসব দেশ আংশিকভাবে খাদ্য আমদানিনির্ভর সেসব দেশ অনেকাংশে স্বস্তিতে রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাড়ছে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশেও গত প্রায় ১০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে গেছে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি। খাদ্যের নিরাপদ আমদানি-রপ্তানি নিশ্চিতের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থা এফএও এবং বিশ্বব্যাংক। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যসংকট দেখা দিলেও এবং বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য ঘাটতি নেই। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এই সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বের নানা দেশের নানা সমস্যা সংবলিত তথ্যাদি উঠে এসেছে ওই প্রতিবেদনে। এ ছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য বিষয়ক সংস্থার প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনেও বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। খাদ্য বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, আমাদের বেশির ভাগ খাদ্যই সঞ্চিত থাকে জনসাধারণের ঘরে।


ফলে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই। কেননা আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন খুবই ভালো। সামনের মৌসুমেও বাম্পার ফলন হবে। তবে আমদানিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। এটার জন্য সরকার আগে থেকেই নানা রকম ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে বিশ্বজুড়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ:'হুমকির মুখে বৈশ্বিক খাদ্যব্যবস্থা'

এর সঙ্গে একমত হয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও বলেছে, বৈশ্বিকভাবে যে হারে আমদানি পণ্য ও খাদ্য পণ্যের দাম বাড়ছে তাতে মূল্যস্ফীতির ঘোড়াকে সামলে রাখা কঠিন হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশে উঠেছে। এ ছাড়া চীন, ভারত, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, কানাডাসহ বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনে নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতে অতিরিক্ত বন্যা, খরা কিংবা দাবানলে বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ফলে উৎপাদন কমেছে। আগামী মৌসুমেও উৎপাদন কম হবে ব্যাপক হারে।
 

এ জন্য জাতিসংঘের মহাসচিব বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করেছেন খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে। এ অবস্থায় নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে মজুদ বাড়াচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ। বাংলাদেশও খাদ্য উৎপাদন এবং মজুদ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য কৃষি খাতের ভর্তুকি কমানোর আইএমএফের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা সফররত আইএমএফের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। এ সময় অর্থবিভাগের সঙ্গে বৈঠকে ভর্তুকি কমিয়ে আনার প্রস্তাব করে সংস্থাটি। অবশ্য অর্থবিভাগ তা নাকচ করে দিয়েছে বলে জানায় বৈঠকের একটি সূত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত খাত মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় গড় মূল্যস্ফীতি বছর শেষে সাড়ে ১৫ শতাংশে দাঁড়াবে। যা এ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদন ও মজুদে অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও এ খাতের মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভারত ২০২২ সালের ১৩ মে থেকে গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদিও বাংলাদেশের জন্য ভারত এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। একই সঙ্গে ভারত চিনি রপ্তানিতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আফগানিস্তান গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আলজেরিয়া চিনি, পাস্তা, তেল, গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চলতি বছরের মার্চে, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। আর্জেন্টিনা সয়াবিন তেল ও সয়াবিন মিল (সয়াবিন থেকে তৈরি করা খাদ্যপণ্য) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। বেলারুশ চাল, বার্লি, ভুট্টা, গম, সূর্যমুখী তেল, কেকসহ নানা খাদ্য পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় চলতি বছরের এপ্রিলে। যা এখনো চলমান।


'ক্যামেরুন নানা ধরনের সবজি, জর্জিয়া গম-বার্লি, ঘানা ভুট্টা, চাল ও সয়াবিন রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া, কাজাখাস্তান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তিউনেশিয়া, সার্বিয়া, তার্কি বিভিন্ন রকমের খাদ্যপণ্য, খাদ্য বীজ, তেলবীজ ও সার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে। যা এখনো চলমান। এমন পরিস্থিতিতে সারাবিশ্বের খাদ্য ব্যবস্থাতেই এক ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে উত্তরণের জন্য খাদ্য রপ্তানির ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক।.

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত